1. admin@dailygoraishobvotha.com : dailygorai : Salim Takku
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কুষ্টিয়ায় সাব রেজিস্ট্রার হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড ১ জনের যাবজ্জীবন- গড়াই সভ্যতা তালেবানদের লক্ষ্য করে সিরিজ হামলা, নিহত ৩- গড়াই সভ্যতা কুষ্টিয়া গড়াই নদীতে ধরা পরলো রাসেলস ভাইপার, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা- গড়াই সভ্যতা নেচে-গেয়ে মরদেহ দাফন: সেই ভণ্ডপীর শামীম কারাগারে- গড়াই সভ্যতা নোয়াখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই বাড়ির ৪ জনের মৃত্যু-গড়াই সভ্যতা আবরার হত্যা: ২২ আসামী নির্দোষ – গড়াই সভ্যতা টিকা নিশ্চিত হলেই খুলবে ইবি’- গড়াই সভ্যতা ১০-১২ নভেম্বর শুরু হতে পারে এসএসসি- গড়াই সভ্যতা নিজ অস্ত্রের গুলিতে র‍্যাব সদস্যের মৃত্যু- গড়াই সভ্যতা যেসব শিক্ষকের তালিকা চেয়েছে সরকার- গড়াই সভ্যতা

বিলীনের পথে অন্তত ২০ গ্রাম- গড়াই সভ্যতা

কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২০ আগস্ট, ২০২১
  • ৩৬ বার পঠিত

কক্সবাজারের চকরিয়া মাতামুহুরী নদীর উত্তর পাশে বন্যা ও জোয়ারের পানির কবলে পড়ে প্রতিবছরই বিলীন হয় একাধিক ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। চলতি মৌসুমে ইতিমধ্যে বহু ঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি হারানো অনেক পরিবার ভূমিহীন হয়ে বর্তমানে নিঃস্ব। চলমান বর্ষায় ভাঙন এবং নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে অন্তত ২০টি গ্রাম। এতে রয়েছে মসজিদ-মাদ্রাসাও।

দ্রুত সময়ে জিও ব্যাগ ফেলার মাধ্যমে প্রায় তিন কিলোমিটার ভাঙন রোধ করতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে এলাকাবাসী পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আবেদনও করেছে। আবেদনে সুপারিশও করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জাফর আলম।

আবেদন সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়া কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব সীমানা থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বীপকূল পাড়া পুরাতন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পর্যন্ত ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বন্যায় ৫টি ঘর সম্পূর্ণ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ক্ষতি হয়েছে কৃষিজমি ও ফসলের। হুমকিতে রয়েছে দ্বীপকূল পাড়া, ছোঁয়ালিয়া পাড়া, ধুপি পাড়া, শীল পাড়া, হিন্দু পাড়া, টুনু সিকদার পাড়া, কৈয়ারবিল প্রপার, মুহুরী পাড়া, মিয়াজী পাড়া, চড়ারকুল ও জালিয়া পাড়া। এসব এলাকায় রয়েছে কৈয়ারবিল উচ্চবিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাকজুলুলুম মাদ্রাসা, আলহেরা মসজিদ ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসা, পশ্চিম কৈয়ারবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। চলমান বর্ষা ও বন্যায় এসব এলাকা ও মসজিদ-মাদ্রাসাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

এছাড়া লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়ার পূর্ব সীমানা থেকে ৪ নম্বর ওয়ার্ড রোস্তম আলী চৌধুরী পর্যন্ত সম্প্রতি বন্যায় ব্যাপক ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে রোস্তম আলী চৌধুরী পাড়া, ২ নম্বর ওয়ার্ডের জালিয়া পাড়া, ১নং ওয়ার্ডের মন্ডল পাড়া পশ্চিম সীমানা পর্যন্ত নদীভাঙনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেকের ফসলি জমি ও গোয়াল ঘর সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি বন্যায় মাতামুহুরি নদীতে বিলীন হয়ে যায় কৈয়ারবিল ৯নং ওয়ার্ডের দ্বীপকূল এলাকার শিব্বির আহমদ, সোনা মিয়া, কামাল হোসেন, রোকেয়া বেগম, মো. হোসেন, মনজুর আলম, নুর নাহার ও মো. মানিকের বসতবাড়ি। নদীগর্ভে ভিটে ও বাড়ি হারিয়ে তারা এখন নিঃস্ব।

বসতভিটে হারানো শিব্বির আহমদ বলেন, প্রতিবছর বন্যায় মাতামহুরির উত্তর পাশ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। বসতবাড়ির পাশাপাশি ভেঙে যায় অনেক ফসলি জমিও। সম্প্রতি বন্যায় আমার ঘরসহ প্রায় ১০টি বসতভিটে নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছি এক আত্মীয়ের বাড়িতে। নদীর তীরে স্থায়ী কোনো বাঁধ না দেওয়ায় বেশি দুর্ভোগে পড়েছে কৈয়ারবিল ইউনিয়নের মানুষ।

মো. হোসেন বলেন, গত পাঁচ বছরে আমার অনেক আত্মীয়স্বজন নদীতে বসতঘর হারিয়ে অন্যত্রে চলে গেছে। এই বছর আমার ঘর বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে অনেক ফসলি জমিও রক্ষা পায়নি। সব হারিয়ে এখন আমি নিঃস্ব। দ্রুত সময়ে জিও ব্যাগ না ফেললে আমার মতো অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে।

গত কয়েক বছরে নদী ভাঙনের কবলে পড়ে শুধু দ্বীপকূল এলাকা থেকে অন্যত্রে চলে যান নুর আহমদ, রফিক আহমদ, ইসহাক মিয়া, আবুল কালাম, ঠিকাদার নজির আহমদ দিদার, শাহাব উদ্দিন ও আব্দুল্লাহ আল নোমানসহ বহু পরিবার। এখনো তারা নদীভাঙনের আতঙ্কে রয়েছে।

দ্বীপকূল এলাকার বাসিন্দা ঠিকাদার ও সমাজসেবক নজির আহমদ দিদার বলেন, কয়েক বছর আগে আমার বসতভিটেও নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এরপর নদীর তীর থেকে একটু দূরে এসে ঘর তৈরি করি। কিন্তু এখনো দুচিন্তা যায়নি। চলমান বর্ষা ও সম্প্রতি বন্যায় নদীর তীর ভেঙে আবারও বাড়ির পাশে চলে এসেছে। এখন নতুন করে আতঙ্কে আছি।

নজির আহমদ দিদার বলেন, সম্প্রতি বন্যায় অনেক ঘর ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। দ্বীপকূল পুরাতন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদও বিলীন হওয়ার পথে। প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয় করে গত বছর মসজিদের কাজ শেষ হয়েছে। এখন মসজিদের দক্ষিণ পাশের বাউন্ডারি নদী ভাঙনের কবলে পড়ে ধসে পড়েছে। যেকোন সময়ে পুরাতন মসজিদসহ দ্বীপকূল বাজার, নতুন নতুন বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হতে পারে। দ্রুত সময়ে যদি জিও ব্যাগ স্থাপনা করা যায়; তাহলে অনেক গ্রাম রক্ষা পাবে।

চকরিয়া ৯ নম্বর লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কাইছার বলেন, সম্প্রতি বন্যায় নদী ভাঙনে আমার ইউনিয়নের প্রায় ১০টি মতো বসতঘর বিলীয় হয়ে গেছে। এছাড়া আধা কিলোমিটার ফসলি জমি একেবারে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকিতে রয়েছে আরও বসতবাড়ি ও শিক্ষপ্রতিষ্ঠান। ব্লক স্থাপনের মাধ্যমে যদি স্থায়ী বাঁধ দেওয়া যায় তাহলে রক্ষা পাবে অনেক গ্রাম। আমার ইউনিয়নে বেশি আতঙ্কে রয়েছে চারটি গ্রামের বাসিন্দারা। দ্রুত সময়ে জিও ব্যাগ স্থাপনের মাধ্যমে গ্রাম রক্ষা করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাবরে আবেদনও করা হয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান।

এ বিষয়ে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, সম্প্রতি বন্যায় মাতামুহুরীর যেসব এলাকায় পানি ছিল এবং বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল সব জায়গায় পরিদর্শন করেছি ও মনিটরিংও করা হয়েছিল। তাছাড়া পানি কমে না যাওয়ায় কাজ শুরু করতে পারিনি। যে চারটি জায়গায় ভেঙে গিয়েছিল বর্তমানে সেখানে কাজ শুরু হয়েছে জিও ব্যাগ দিয়ে। আর দুটি জায়গায় চকরিয়া পৌর রক্ষা বাঁধ ক্ষতি হয়েছে সেগুলোর কাজও শুরু হয়েছে। এছাড়া আরও বিভিন্ন জায়গায় কাজ শুরু হয়েছে। আর কিছু জায়গা এখনো মনিটরিংয়ে রয়েছে, যেহেতু বর্ষাকাল এখনো চলমান। বিভিন্ন জায়গায় ভাঙন এখনো সীমারেখার মধ্যে রয়েছে। তবে আমরা মনিটরিংয়ে রেখেছি। যে জায়গায় ভাঙন বেড়েছে বা নতুন করে ভাঙন হয়েছে সবগুলো অন্তর্ভুক্ত করে সমীক্ষা শেষ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ভাঙন রোধে প্রতিরক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন করতে প্রকল্প সাবমিট করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2019 daily gorai
Theme Customized BY LatestNews