1. admin@dailygoraishobvotha.com : dailygorai : Salim Takku
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কুষ্টিয়ায় সাব রেজিস্ট্রার হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড ১ জনের যাবজ্জীবন- গড়াই সভ্যতা তালেবানদের লক্ষ্য করে সিরিজ হামলা, নিহত ৩- গড়াই সভ্যতা কুষ্টিয়া গড়াই নদীতে ধরা পরলো রাসেলস ভাইপার, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা- গড়াই সভ্যতা নেচে-গেয়ে মরদেহ দাফন: সেই ভণ্ডপীর শামীম কারাগারে- গড়াই সভ্যতা নোয়াখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই বাড়ির ৪ জনের মৃত্যু-গড়াই সভ্যতা আবরার হত্যা: ২২ আসামী নির্দোষ – গড়াই সভ্যতা টিকা নিশ্চিত হলেই খুলবে ইবি’- গড়াই সভ্যতা ১০-১২ নভেম্বর শুরু হতে পারে এসএসসি- গড়াই সভ্যতা নিজ অস্ত্রের গুলিতে র‍্যাব সদস্যের মৃত্যু- গড়াই সভ্যতা যেসব শিক্ষকের তালিকা চেয়েছে সরকার- গড়াই সভ্যতা

মেহেরপুর গাংনীতে ইতিহাসে এতো মানুষের মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম

মিজানুর রহমান গাংনী মেহেরপুর
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১
  • ৮৬ বার পঠিত

গ্রামের কবরস্থানে গিয়ে দেখা মেলে এক সারিতে ২৪ জনের কবর। বাঁশের রেলিং দিয়ে ঘেরা কবরে চির সমাহিত গ্রামের বিভিন্ন বয়সী মানুষ। ভোরের দিকে মসজিদের মাইকে ভেসে আসা মৃত্যুর খবর গ্রামের মানুষের কানে যেন বেজেই যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়।

একজনের মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে বাড়ি ফেরার আগেই আরেকজনের মৃত্যুর খবর। গ্রামের ইতিহাসে এতো মানুষের মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম। তাই ভীতি ছড়িয়েছে সকলের মনে। তবুও করোনা উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ থাকা মানুষের করোনা পরীক্ষা হচ্ছে না। নানা ধরনের গুজব, ভীতি আর অনীহায় করোনা পরীক্ষা থেকে দূরে সরে আছেন গ্রামের মানুষ। এতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানালেন কয়েকজন সচেতন মানুষ।

এ চিত্র মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া গ্রামের। একই উপজেলার গাড়াডোব গ্রামে গেলো এক মাসে মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের। গ্রামের চিত্র এমন হলেও করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে গ্রামের মানুষের অচেতনতাকেই দায়ী করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জানা গেছে, জোড়পুকুরিয়া ও গাড়াডোব গ্রামে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে করোনা আক্রান্ত, বার্ধক্য, দীর্ঘদিনের রোগাক্রান্ত এবং কিছু মানুষের করোনা উপসর্গ ছিল। এছাড়াও বিপুল সংখ্যক মানুষের সর্দি, জ্বর ও করোনার অন্যান্য উপসর্গ থাকার পরেও পরীক্ষার আওতার বাইরে রয়েছেন।

জোড়পুকুরিয়া গ্রামের লিটসন হোসেন জানান, প্রতিদিন অন্তত ৩০ জন মানুষ তার কাছে চিকিৎসার জন্য আসেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই করোনা উপসর্গ নিয়ে। জোর করেও এদেরকে করোনা পরীক্ষা করানো যাচ্ছে না বলে অসহায়ত্ব প্রকাশ করলেন এই পল্লী চিকিৎসক।

তিনি বলেন, জোড়পুকুরিয়া ও আশেপাশের গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ির মানুষেরই করোনা উপসর্গ আছে। পরীক্ষা করলে এদের মধ্যে ৮০ ভাগের ওপরে পজিটিভ হবে।

জোড়পুকুরিয়া গ্রাম সূত্রে জানা গেছে, গেলো এক মাসে যে ২৪ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে একজন করোনা আক্রান্ত ছিলেন। বাকিদের কেউ করোনা পরীক্ষা করেননি। পরীক্ষা করা গেলে হয়তো এদের মধ্যে বেশিরভাগ করোনা পজিটিভ পাওয়া যেতো। এতো কিছুর পরেও গ্রামের মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানা ও করোনা পরীক্ষার বিষয়ে নানা অজুহাত দেখিয়ে বিরত থাকছেন।

এদিকে জোড়পুকুরিয়া গ্রামের মতই একই চিত্র গাড়াডোব গ্রামের। গাড়াডোব গ্রামে মারা যাওয়া ২১ জনের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত ছিলেন ৫ জন। বাকি যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের কারও পরীক্ষা হয়নি।

গাড়াডোব গ্রামের কয়েকজন জানান, করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও করোনা পরীক্ষা নিয়ে নানা ধরনের গুজবে ডুবে আছে গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ। ফলে গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ আক্রান্ত হলেও পরীক্ষা করানো যাচ্ছে না। সর্দি, জ্বরসহ করোনার অন্যান্য উপসর্গ থাকা কেউ যখন অক্সিজেন সংকটে পড়ছেন তখন তাকে বাধ্য হয়ে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। অপরদিকে যারা বিভিন্ন রোগে ভুগছেন তাদেরকেই কেবল চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বাকিরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিতেই অভ্যস্ত।

মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দীন বলেন, ঠাণ্ডা কাশি যাদের হচ্ছে তারা যদি সচেতন হয় তাহলে করোনা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। অসুস্থ ব্যক্তিদের হাসপাতালে আসতে হবে। প্রয়োজনে টেস্ট করাতে হবে। তবে অনেকে তথ্য গোপন করছে বিধায় অন্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2019 daily gorai
Theme Customized BY LatestNews