1. admin@dailygoraishobvotha.com : dailygorai : Salim Takku
বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১১:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গুগল-আমাজন-ফেসবুকের নিবন্ধন বাধ্যতামুলক,রাজস্ব আদায়ের নির্দেশ- গড়াই সভ্যতা সাকিবের স্ত্রীর ইটের জবাবে মাশরাফীর ভাইয়ের পাটকেল- গড়াই সভ্যতা রাজধানীতে ১২ থেকে ১৭ বছরের শিক্ষার্থীদের টিকাদান শুরু ১ নভেম্বর- গড়াই সভ্যতা স্মার্টফোন থেকে নির্গত আলোতে চোখের সর্বনাশ- গড়াই সভ্যতা কুয়াকাটা যেতে আর ফেরি পার হতে হবে না, পায়রা সেতুর উদ্বোধন- গড়াই সভ্যতা বিএফইউজে’র সভাপতি ওমর ফারুক, মহাসচিব দীপ আজাদ- গড়াই সভ্যতা শারজাহতে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হচ্ছে বাংলাদেশের- গড়াই সভ্যতা যেভাবে ইকবাল কে ধরলেন তিন গোয়েন্দা- গড়াই সভ্যতা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামলায় নিহত বেড়ে ৭- গড়াই সভ্যতা কুষ্টিয়ায় লক্ষ টাকার স্বর্ণলঙ্কার নিয়ে লাপাত্তা রিক্সা চালক- গড়াই সভ্যতা

বঙ্গবন্ধু-আওয়ামীলীগ-বাংলাদেশ, বাংলা ইতিহাসে এই তিনটি নাম অমলিন,অভিন্ন ও অবিনশ্বর

রাজিব আহামেদ :
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৬ জুন, ২০২১
  • ১১০ বার পঠিত

১৭৫৭ সালের ২৩ শে জুন পলাশীর আম্রকানন ভাগীরথী নদীর তীরে অস্তমিত হয়েছিল বাংলার স্বাধীনতার সূর্য। প্রায় ২০০ বছরের শোষন, নিপীড়ন ও বর্বরতার অসহনীয় শাসনে বাঙালি যখন জর্জরিত—আজ থেকে ৭২ বছর আগে ১৯৪৯ সালের একইদিনে ২৩শে জুন পুরাণ ঢাকার বিখ্যাত রোজ গার্ডেনে গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন, বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগঠন, অসহায়-নিপীড়িত জনগণের আশার আলোর সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ; যার নেতৃত্বে বাংলার স্বাধীনতা মুক্তিকামী মানুষেরর ছিনিয়ে এনেছিল বাংলার বিজয়। গৌরব, ঐতিহ্য, সাফল্য ও ইতিহাসের উত্থান-পতনের পথ পেরিয়ে ৭২ বছরে প্রানের সংগঠনটি। সেই থেকে আজ অবধি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলার মানুষের সকল স্বাধীকার আন্দোলনসহ নানান সংকট, সংগ্রাম,গৌরব, অর্জন ও গণমানুষের আস্থার ঠিকানা হয়ে অতীতের ন্যায় ফিনিক্স পাখির মত হেনরি কিসিঞ্জারের “তলাবিহীন ঝুড়ি”– আখ্যায়িতকে বৃদ্ধা আঙুলের স্বপ্রতীক দেখিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে

আমাদের বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ইতিহাস ও আওয়ামীলীগের বিকাশ এক সময়, এক বিন্দুতে মিলিত। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এদেশের রাজনৈতিক মুক্তিদাতা;জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন তার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ বাঙালির অধিকার আদায়ে নিরন্তর সংগ্রাম করেছে। আজ রাষ্ট্রনায়ক দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ” জনগণের ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক মুক্তির” পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ৭২ বছরের এই ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের ঘটনাপঞ্জীর একটি ধারাবাহিক সময় নির্ঘন্ট এটি যা এদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্তের ফলে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের জন্ম, যেটি আবার পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান নামে আলাদা দুটি রাষ্ট্র গঠন করে। পশ্চিম পাকিস্তান তার নিজস্ব ক্ষমতা হস্তক্ষেপে পূর্ব পাকিস্তান তথা পূর্ব বাংলাকে তার সকল অধিকার থেকে বঞ্চিত করে নিজেদের কতৃত্বকে চাপিয়ে দেবার চেষ্টা করে, শুরু হশ অবর্ননাতীত অমানবিক নির্যাতন-নিপীড়ন। ১৯৪৮ সালের ২৩ শে ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করলে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেন স্বাধীন বাংলার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ে ছাত্র সমাজকে তৎপর ও উদ্বুদ্ধ করতে ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি গঠন করেন “পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ”। ১৯৪৮ সালের ২রা মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়৷ ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৩’র যুক্তফ্রন্ট গঠন, ১৯৫৪’র নির্বাচনী বিজয়, যুক্তফ্রন্টে মন্ত্রীসভা গঠন, ১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলিমলীগের বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশনে সকল ধর্ম-বর্ণ জাতিকে প্রাধান্য দিয়ে একটি আদর্শিক ধর্মনিরপেক্ষ জাতি গঠনে মুসলিম শব্দটি প্রত্যাহার করে নতুন নামকরণ করা হয় ” বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ।”

১৯৫৮ সালের পাকিস্তানের সামরিক শাসক জারি করেন এবং ১২-ই অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ১৯৬২ সালে দীর্ঘ ৪ বছরের সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৮জুন তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।১৯৬৪ সালে ২৫ শে জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আওয়ামীলীগকে পুনরুজ্জীবিত করা হয় এবং ২৬ শে জুলাই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সম্মিলিত বিরোধী দল গঠিত হয়। ১৯৬৫ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, নির্বাচনের ১৪ দিন আগে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৬৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারিতে বাঙালির অধিকার আদায়ের দাবিতে “ম্যাগনাকার্টা” ৬ দফা উত্থাপন করা হয়, ১৮ মার্চে আওয়ামীলীগের কাউন্সিল অধিবেশনে তা গৃহীত হয়। ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করে বঙ্গবন্ধুসহ ৩৫ জনকে আসামি করা হয়।১৯৬৯ সালে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তার মুক্তির দাবিতে গোটা দেশবাসী সোচ্চার। ছাত্রসমাজের ৬ দফার সমর্থনের ভিত্তিতে ১১দফা উপস্থাপন করে ও ২২ ফেব্রুয়ারী তীব্র গণ আন্দোলনের মুখে “সরকার রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য” শিরোনামের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নেন। ২৩ ফেব্রুয়ারী ডাকসু ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের এক বিশাল সংবর্ধনায় শেখ মুজিবুর রহমানকে “ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ” বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন। ১৯৭০ সালের ৪ঠা জুন নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে আওয়ামীলীগ এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালে ১২-নভেম্বর পূর্ব বাংলায় ভয়াবহ ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে প্রায় ১০/১২ লাখ মানুষ মারা যায় এ পরিস্থিতি দেখে বঙ্গবন্ধু নির্বাচনের প্রচারণা স্থগিত করে ত্রাণ ও সাহায্য নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েন এবং ঐ অঞ্চলের জনগণের নিকট সরকারের উদাসীনতার কথা তুলে ধরেন। এই সময় “সোনার বাংলা শ্মশান কেন?” এ শিরোনামে তথ্য সম্বলিত একটি পোস্টার জাতিকে প্রচন্ডভাবে নাড়া দেয় – ৭ ডিসেম্বর বন্যাদূর্গত এলাকাকে বাদ দিয়ে জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ১৬৭ টি আসনে জয় লাভ করে পাকিস্তানে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে ২৯৮ টি আসন জয় লাভ করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। ১৯৭১ সালে ৩ জানুয়ারি ৬দফার শাসনতন্ত্রন প্রণয়নে ৬ দফা বাস্তবায়নে শপন নিয়ে রবীন্দ্রসংগীত “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি” এই রবীন্দ্রসংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন হয়। বঙ্গবন্ধু “জয় বাংলা” স্লোগান দিয়ে বাংলার মুক্তির সংকল্প ব্যক্ত করে শপথ অনুষ্ঠানে ” জয় বাংলা, বাংলার জয়” এ গানটি পরিবেশিত হয়। ১৯৭১ সালে ৭ই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ১৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের যুগান্তকারী ভাষণ ” এবারে সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমদের মুক্তির সংগ্রাম”। বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণে স্পষ্ট হয়ে যায় স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। সারাদেশে শুরু হয় “অসহযোগ আন্দোলন”। দীর্ঘ ৯মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ৩০ লক্ষ শহীদ ও প্রায় ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম হানির বিনিময়ে আজ অর্জিত আমাদের এ স্বাধীনতার রুপলাভ, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সবুজ-শ্যামলে ঘেরা মা-মাটি-মমতার এই স্বাধীন বাংলাদেশ ।

১৯৭১ সালে ৭ই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ১৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের যুগান্তকারী ভাষণ ” এবারে সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমদের মুক্তির সংগ্রাম”। বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণে স্পষ্ট হয়ে যায় স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। সারাদেশে শুরু হয় “অসহযোগ আন্দোলন”। দীর্ঘ ৯মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ৩০ লক্ষ শহীদ ও প্রায় ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম হানির বিনিময়ে আজ অর্জিত আমাদের এ স্বাধীনতার রুপলাভ, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সবুজ-শ্যামলে ঘেরা মা-মাটি-মমতার এই স্বাধীন বাংলাদেশ। সংগ্রাম, অর্জন, সাফল্য ও উন্নয়নের অগ্রগতির স্রোতধারায় বয়ে চলেছে বাংলার মাটির প্রতিটি শিরা-উপশিরায়, তারই ধারাবাহিকতায় আজ পদ্মাসেতু,কর্ণফুলী টার্নেল নির্মাণ, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১, আকাশবাণী, পায়রা বন্দর, রুপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র, ৯৯৯ এর সুবিধাসহ ইত্যাদি— এ সাফল্যের শুধু একটিই নাম “বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2019 daily gorai
Theme Customized BY LatestNews